Tuesday, November 22, 2011

শপথ ও আত্মহত্যাকারী প্রসঙ্গে



সাবেত বিন যাহ্হাক রাদিয়াল্লাহুআনহু নবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করল তাকে উক্ত ধর্মের লোক বলেই গণ্য করা হবে। আর যে ব্যক্তি কোন লোহার অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করল, তাকে সে অস্ত্র দিয়ে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে।” [বুখারী: ১৩৬৩]

হাদিস

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হিসন দারেমী আবু মাদীনার বর্ণনা অনুযায়ী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তি যখন পরস্পর মিলিত হতেন তখন তারা একজন অপরজনকে সূরা আসর না শুনানো পর্যন্ত পরস্পর থেকে বিদায় নিতেন না। ( তাবারানী )
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালবাসবে, তার আখেরাতের লোকসান হবে এবং যে আখেরাতকে ভালবাসবে তার দুনিয়ার কিছু ক্ষতি হবে। হে আমার উম্মত! তোমাদের মঙ্গলের জন্যই বলছি, তোমরা অস্থায়ী ও ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে ভালবেসে চিরস্থায়ী আখেরাতকে নষ্ট করে দিওনা। তোমরা সকলে চিরস্থায়ী পরকালকেই শক্তভাবে ধর এবং বেশি করে ভালবাস। (অর্থাৎ দুনিয়ার মহব্বত পরিত্যাগ করে আখেরাতের প্রস্তুতিতে আমলের প্রতি যথাযথ ধাবিত হও। (আহমাদ, বাইহাকী)
সাবেত বিন যাহ্হাক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করল তাকে উক্ত ধর্মের লোক বলেই গণ্য করা হবে। আর যে ব্যক্তি কোন লোহার অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করল, তাকে সে অস্ত্র দিয়ে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে।” [বুখারী: ১৩৬৩]
হুজায়ফা (রঃ) হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবেনা (বুখারী ও মুসলিম) । চোগলখোরি বলা হয় - একের কথা অপরকে বলে উভয়ের মাঝে মনমালিন্যের সৃষ্টি করে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেওয়া।
 
 
 
 
 
 

Wednesday, November 16, 2011

অহংকার




আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ () বলেন, “যার মনে একটি অণু পরিমাণ ওজনেরও অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।একজন উপস্থিত লোক জানতে চাইলো, “ইয়া রাসুলুল্লাহ , যদি কেউ তার নিজের পোষাক জুতাকে পছন্দ করে একারণে যে তাকে সুন্দর দেখায়রাসুলুল্লাহ() বলেন, “আল্লাহ তায়ালা নিজেই সুন্দরতম অস্তিত্ব এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার মানে হল, সত্যকে প্রত্যাখান করা মানুষকে ছোট করে দেখা ” [মুসলিম]


অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না, পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। যমীনে চলার সময় তুমি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং কন্ঠস্বর নিচু করো, নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর
[
লুকমান ৩১:১৮-১৯]


আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহুআনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “যখন তোমাদের কেউ দেখতে চায় যে, চেহারা সম্পদের দিক থেকে কে তার চেয়ে উত্তম, সে যেন তখন তার চেয়ে যে নিম্নমানের তার দিকে তাকায়।
[
বুখারী: ৬৪৯০]

হাদিস

হযরত সাওবান [রা] হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ
"কোন মুসলমান যখন তার কোন রোগী মুসলমান ভাইকে দেখতে যেতে থাকে, তখন সে বেহেশতের ফল আহরণ করতে থাকে (অথবা বেহেশতের পথে চলতে থাকে), যতক্ষণ না সে প্রত্যাবর্তন করে । {মুসলিম, মেশকাত-১৪৪১}

হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণীতঃ
"রাসূল (সা) বলেছেনঃ বৈষয়িক প্রাচুর্য ঐশ্বর্য নয়। বরং প্রকৃত ঐশ্বর্য হল মনের ঐশ্বর্য " ।

সহীহ বুখারী, ১০ম খন্ড, হাদীস ৬০০২
 
 

Tuesday, November 8, 2011

জান্নাত

হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেন, আল্লাহ বলেছেন, আমি আমার সৎকর্মশীল বান্দাহদের জন্য জান্নাতে এমন সব নিয়ামতসমূহ তৈরী করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্ত:করণও তা সম্পর্কে ধারণা রাখেনি।
(বুখারী, মুসলিম)



Monday, October 31, 2011

হাদিস


হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) নবী করীম () থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেন, কেউ কোন নামাযের কথা ভুলে গেলে তা স্মরণ হওয়া মাত্র আদায় করে নিবে নামাযের এটা ছাড়া অন্য কোন কাফফারা নেই কেননা, আল্লাহ বলেন, আমাকে স্মরণের জন্য নামায কায়েম কর[বোখারী শরীফ ¤ ৫৬২]
 
হযরত আবুযার জুনদুব ইবন জুনাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেনঃহে আমার বান্দারাআমি নিজের উপর যুলুমকে হারাম করে রেখেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছিকাজেই তোমরা পরস্পর যুলুম করোনা হে আমার বান্দারাআমি যাকে হিদায়াত করেছি সে ছাড়া তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট কাজেই আমার কাছে হিদায়াত চাও, আমি তোমাদেরকে হিদায়াত দেব হে আমার বান্দারা ! আমি যাকে খাদ্য দিয়েছি সে ছাড়া তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত কাজেই আমার কাছে খাদ্য চাও, আমি তোমাদেরকে খাদ্য দেবহে আমার বান্দারা ! আমি যাকে কাপড় দিয়েছি সে ছাড়া তোমাদের প্রত্যেকেই উলংগ কাজেই আমার কাছে কাপড় চাও, আমি তোমাদেরকে কাপড় দেব হে আমার বান্দারা ! তোমরা রাতদিন ভুল করে থাক, আর আমি সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেই কাজেই তোমরা আমার কাছে গুনাহ ক্ষমা চাও, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেব হেআমার বান্দারা ! তোমরা আমার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা, আমার কোন লাভও করে দিতে পারবেনা হে আমার বান্দারা ! যদি তোমাদের পূর্বের ও পরের সমস্ত জিন ও মানুষ তোমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠতম আল্লাহভীরুর হৃদয়ের মত হৃদয় সম্পন্ন হয়ে যায়, তবুও তাতে আমার রাজত্বের এতটুকু মর্যাদা বৃদ্ধি পাবেনা হে আমার বান্দারা ! যদি তোমাদের পূর্বের ও পরের সমস্ত জিন ও মানুষ তোমাদের মধ্যকার সবচেয়ে খারাপ মানুষের হৃদয়ের মত হৃদয়সম্পন্ন হয়ে যায়, তবুও তাতে আমার রাজত্বের এতটুকু মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবেনা
হে আমার বান্দারা
যদি তোমাদের পূর্বের ও পরের সমস্ত জিন ও মানুষ কোন এক ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার কাছে একত্রে চায় এবং আমি প্রত্যেককে তার চাহিদা পূরণ করে দেই, তাহলে তাতে আমার কাছে যে ভাণ্ডার রয়েছে তার এতটুকু কমে যায় যতটুকু সমুদ্রে একটি সুঁচ ফেললে তার পানি কমে যায়। হে আমার বান্দারা ! আমি তোমাদের নেক আমলকে তোমাদের জন্য জমা করে রাখছিতারপর আমি তোমাদেরকে তার পূর্ণ বিনিময় দেব। কাজেই যে ব্যক্তি কোন কল্যাণপায়, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি অন্য কিছু পায়, সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে।(মুসলিম), [রিয়াদুসসালেহীন ; প্রথমখণ্ড, হাদীসনং-১১১]
 
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দুশ্রেণীর মানুষ জাহান্নামী হবে- যারা গরুর লেজসদৃশ বেতদ্বারা মানুষকে প্রহার করে এবং যেসব নারী এত পাতলা পোশাক পরিধান করে যে তার ভেতর দিয়ে শরীরের অংশ দেখা যায় এবং অহংকারীরবেশে হেলে দুলে পথ চলে। এনারী জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবেনা, যা বহুদূর থেকে পাওয়া যায়।” (মুসলিম)
 
আবুল আব্বাস সাহলবিনসা'দআস্-সা'ইদীরাদিয়াল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:"এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কাজ বলুন যা করলে আল্লাহ্ আমাকে ভালবাসেন, লোকেরাও আমাকে ভালবাসে। তখন তিনি বললেন: দুনিয়ার প্রতি অনুরাগী হবেনা, তাহলে আল্লাহ্ তোমাকে ভালবাসবেন; আর মানুষের কাছে যা আছে তার ব্যাপারে আগ্রহী হবে না, তা হলে মানুষও তোমাকে ভালবাসবে।"[ইবনেমাজাহ্: ৪১০২]

রাসুল(সা) বলেছেন, “তোমরা সবচেয়ে অধম লোক দেখতে পাবে সেই ব্যক্তিকে, যে বিভিন্ন জনের কাছে গিয়ে নিজেকে বিভিন্নভাবে বা বিভিন্ন আকারে প্রকাশ করে। আর যে ব্যক্তি পৃথিবীতে দ্বিমুখী আচরণ করবে , কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে দুটি আগুনের জিহ্বা দিবেন।” [বুখারি,মুসলিম,মুয়াত্তা]
 
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃহতে বর্ণিতরাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “সবচেয়ে বড় কবীরাহ গুনাহ হল: কোন লোকের তার নিজের পিতামাতার উপর অভিশাপ দেয়াজিজ্ঞাসা করা হল: “ইয়ারাসুলুল্লাহ (সাঃ) কিভাবে একজন লোক তার পিতামাতার উপর অভিশাপ দিতে পারে?” হুযুর (সাঃ) বলেন: “যখন একজন অপরজনের পিতাকে গালি দেয়, তখন সেও ঐ লোকের পিতামাতাকে গালি দেয়  (এ ভাবেই নিজের পিতাকে অভিশাপ দেয়া হয়ে যায়)” (বুখারী)
 
আবূ আব্দুল্লাহ্ জাবের ইবন আব্দুল্লাহ্ আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহুআনহুমা) হতে বর্ণিত হয়েছে- এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহুআলাইহিওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি মনে করেন যদি আমি ফরয নামায আদায় করি, রমযানে রোযা রাখি, হালালকে হালাল বলে ও হারামকে হারাম বলে ঘোষণা করি, আর এর বেশী কিছু না করি, তাহলে কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো? তিনিবললেন: হাঁ। [মুসলিম: ১৫]