Tuesday, September 13, 2011
চোগলখুরি
রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন ,“চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” [বুখারি,মুসলিম,আবু দাউদ,তিরমিযি]
অপর এক হাদীসে বর্ণিত, একবার রাসুল(সা) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাবার সময় বললেন, “এ
দুটি কবরের অধিবাসীরা আযাবরত অবস্থায় ভুগছে। কিন্তু কোন বড় ধরণের
গুনাহের জন্য তারা শাস্তিতে ভুগছে না। একজন পেশাব করে ভালোমত পবিত্র হত
না। আর একজন চোগলখুরি করে বেড়াত। “
এরপর তিনি খেজুরের দুটি কাঁচা ডাল নিয়ে উভয়ের কবরে একটি করে গেড়ে দিয়ে বললেন, “ডাল দুটি না শুকানো পর্যন্ত হয়তো এদের শাস্তি কম হবে।”
রাসুল(সা) বলেছেন, “তোমরা
সবচেয়ে অধম লোক দেখতে পাবে সেই ব্যক্তিকে, যে বিভিন্ন জনের কাছে গিয়ে
নিজেকে বিভিন্নভাবে বা বিভিন্ন আকারে প্রকাশ করে। আর যে ব্যক্তি পৃথিবীতে
দ্বিমুখী আচরণ করবে , কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে দুটি আগুনের জিহ্বা দিবেন।” [বুখারি,মুসলিম,মুয়াত্তা]
Monday, September 12, 2011
ভূমিকা
আমি কোন অনুবাদক বা আলেম নই। একজন
সাধারন মানুষ মাত্র। একমাত্র আল্লাহ’র সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে বাংলা ভাষাভাষি
মানুষের কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বানী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমার এই ব্লগ লেখা।
এখানে আমি বিভিন্ন বই, পত্রিকা, ওয়েব সাইট, ফেসবুক গ্রুপ থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি
মাত্র। সকলের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি—তার জন্য আমি সবার কছে অগ্রিম
ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যদি এতে কোন ভুল-ত্রুটি থাকে তবে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে
আমাকে ভুলগুলো শুদ্ধ করার সহযোগিতা করার জন্য সকলের কাছে অনুরোধ করা হলো এবং সেই সাথে
আরও তথ্য দিতে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করছি।
আল্লাহ’র নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াসটুকু কবুল
ও মজ্ঞুর করেন এবং আমাদের সকলকে হেদায়েত প্রাপ্ত করেন। সাথে সাথে তিনি যেন আমাদের পিতা-মাতা,
দাদা-দাদী, নানা-নানী ও তার উর্ধের সকলকে ক্ষমা করেন ও বেহেস্ত নসিব করেন এবং আমাদের
সন্তান, নাতি-নাতনী ও তাদের নিন্মের সকলকে সিরাতুল মুস্তাকিম নসিব করেন, আমাদের সকলেকে
তাঁর নেককার বান্দাদের মধ্যে গন্য করেন এবং আমাদের অভিভাবক্ত্ব গ্রহণ করেন। আমিন।
আমার এই ব্লগ আমি আমার মা-বাবা এবং আমার একমাত্র আদরের সন্তান ‘সামি’কে উৎসর্গ করছি।
Sunday, September 11, 2011
সালাত
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যখন সালাত আরম্ভ হয়ে যায়, তখন দৌড়ে গিয়ে তাতে শামিল হয়ো না। বরং ধীরস্থিরভাবে হেঁটে এসে তাতে শামিল হও। যতটুকু পাও আদায় করে নাও এবং যতটুকু ছুটে যায় পরে পূরণ করে নাও।” [বুখারী: ৯০৮, মুসলিম: ১৩৫৯]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার ন্যায় এরূপ অযূ করে একাগ্রচিত্তে দু’রাকা’আত সালাত আদায় করবে, তার পূর্বের সকল গোনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” [হাদীসটি হুমরান ও উসমান রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেবে র্বণিত, বুখারী: ১৫৯, মুসলিম: ৫৩৯]
হযরত উসমান ইবনে আবুল আস রাঃ হতে বর্নিত|
তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাঃ (আমি যখন সলাতে দন্ডায়মান হই তখন)
শয়তান আমার মাঝে এবং আমার সলাত ও কিরায়াতের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং
এলোমেলো বাঁধিয়ে দেয়( এমতাবস্হায় আমার করনীয় কি?) তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ
সাঃ বললেন, সে একটি শয়তান ( যে সলাত আদায়কারীদের কে বিভিন্ন কুমন্ত্রনা
দিয়ে থাকে) , যাকে " খিনযাব " বলা হয় | তুমি যখন তার উপস্হিতি অনুভব করবে ,
তখন তার কুমন্ত্রনা থেকে (রেহাই পাবার জন্য) আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা
করবে এবং (খিনযাবের প্রতি ধিক্কার স্বরূপ) তোমার বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে |
হযরত উসমান ইবনে আবুল আস রাঃ বলেন , অতঃপর আমি এরূপ করলাম | ফলে আল্লাহ তা'য়ালা আমার নিকট হতে শয়তানকে দূর করে দিলেন |
সূত্র : ১. সহীহ মুসলিম | ২.মিশকাত:কিতাবু ল ঈমান |
আবু কাতাদা ইবন রিবঈ (রা•) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ বলেন- নিশ্চিত আমি আপনার উম্মাতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং আমি নিজের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিঃ যে ব্যক্তি তা সঠিক ওয়াক্তসমূহে আদায় করবে- আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি তার হেফাজত করে না- তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। (আবু দাউদ)
হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) নবী করীম (ছ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ কোন নামাযের কথা ভুলে গেলে তা স্মরণ হওয়া মাত্র আদায় করে নিবে। ঐ নামাযের এটা ছাড়া অন্য কোন কাফফারা নেই। কেননা, আল্লাহ বলেন, আমাকে স্মরণের জন্য নামায কায়েম কর।
[বোখারী শরীফ ¤ ৫৬২]
দু’মুখো ব্যক্তি সর্বনিকৃষ্ট
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা মানব জাতিকে খনির মত পাবে।
তাদের মধ্যে (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) জাহেলী যামানায় যারা সর্বোত্তম,
ইসলামেও তারা সর্বোত্তম। তবে শর্ত হলো যদি তারা (ইসলামী) জ্ঞান অর্জন করে।
আর তোমরা তাদের মধ্যে (ইসলামের) এ নেতৃত্বের যে আসনে সর্বোত্তম ব্যক্তি
হিসেবে তাকেই পাবে, যে (পূর্বে) ইসলামের ঘোর দুশমন ছিল। আর মানুষের মাঝে
সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই দ্বিমুখী ব্যক্তিকেই পাবে, যে এক বেশে এদের কাছে আসে
এবং আরেক বেশে অন্যদের কাছে যায়।” [মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, বুখারী: ৩৪৯৩,
মুসলিম: ২৫২৬]
হাদিস
“হালাল উপার্জন থেকে যে খেজুর পরিমাণ সদকা করল, আর আল্লাহ হালাল ব্যতীত গ্রহণ করেন না, আল্লাহ তা ডান হাতে গ্রহণ করেন, অতঃপর সদকাকারীর জন্য তা বৃদ্ধি করতে থাকেন, যেমন তোমরা অশ্বশাবক লালন কর অতঃপর পাহাড়ের ন্যায় পরিণত হয়”[ বুখারি: (১৪১০), মুসলিম: (১০১৬)]
“স্বর্ণ ও রূপার এমন কোন মালিক নেই, যে এর হক প্রদান করে না, যার জন্য কিয়ামতের দিন আগুনের পাত তৈরি করা হবে না, যা জাহান্নামের আগুনে তাপ দিয়ে অতঃপর তার পার্শ্ব, কপাল ও পৃষ্ঠদেশ সেক দেয়া হবে। যখন তা ঠাণ্ডা হবে আবার গরম করা হবে, সে দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর, যতক্ষণ না বান্দাদের ফয়সালা সমাপ্ত হয়”[ মুসলিম: (৯৮৭)]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন, অতঃপর সে তার যাকাত প্রদান করল না, কিয়ামতের দিন তার জন্য বিষধর সাপ সৃষ্টি করা হবে, যার দুটি চোঁয়াল থাকবে, যা দ্বারা সে তাকে কিয়ামতের দিন পেঁছিয়ে ধরবে, অতঃপর তার দু’চোয়াল পাকড়ে বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন”[ বুখারি: (৮৪০৩)]
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“কোন মুসলিমের রক্তপাত করা তিনটি কারণ ব্যতীত বৈধ নয়- বিবাহিত ব্যক্তি যদি
ব্যভিচার করে, আর যদি প্রাণের বদলে প্রাণ নিতে হয়। আর যদি কেউ স্বীয়
দ্বীনকে পরিত্যাগ করে মুসলিম জামা‘আত হতে আলাদা হয়ে যায়।”
[বুখারী: ৬৮৭৮, মুসলিম: ১৬৭৬]
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তিনটি জিনিস মৃত ব্যক্তির অনুসরণ করে; তার পরিবার-পরিজন, তার ধন-সম্পদ এবং তার আমল(কার্যক্রম)। এসবের দু’টি ফিরে আসে এবং তার আমল তার সাথে থেকে যায়।” [মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, বুখারী: ৬০৩৩, মুসলিম: ৫২৬০, মাকতাবাতুস্ শামেলাহ্, ২য় সংস্করণ]
ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “লজ্জা কল্যাণই নিয়ে আসে।” [বুখারী: ৬১১৭, মুসলিম: ৩৭] মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে: “লজ্জার সম্পূর্ণটুকু মঙ্গলই মঙ্গল,” অথবা বলেছেন: “সম্পূর্ণ লজ্জাই মঙ্গলজনক।”
আবু
হামযাহ্ আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম-হতে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে
না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের
জন্য পছন্দ করে।” [বুখারী: ১৩, মুসলিম: ৪৫]
হযরত আবূ হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মহানবী (স) ইরশাদ করেছেন-যখন
মানুষ মারা যায়, তখন মানুষের আমলের (সাওয়াবের) ধারা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিন ধরনের আমলের সাওয়াব সদা- সর্বদা অব্যাহত থাকে। ১.সাদকায়ে জারিয়াহ ২. এমন ইলম, (বিদ্যা) যার দ্বারা মানুষের উপকার সাধিত হয় এবং ৩.সুসন্তান, যে তার পিতা-মাতার জন্য দু’আ করে। (তিরমিযী, হাদীস নং-১২৯৭, নাসায়ী, হাদীস নং- ৩৫৯১)
আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন-রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “অনর্থক অপ্রয়োজনীয় বিষয় ত্যাগ করাই একজন ব্যক্তির উত্তম ইসলাম।” [হাদীসটি হাসান। তিরমিযী: ২৩১৮, ইবনে মাজাহ: ৩৯৭৬]
আবূ হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে- এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন: “রাগ করো না”। লোকটি বার বার রাসূলের নিকট উপেদশ চায় আর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “রাগ করো না”। [বুখারী: ৬১১৬]
আবু সায়ীদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনটি মেয়েকে, অন্য রেওয়ায়েতে আছে, অথবা দুটি মেয়েকে লালন-পালন করে তাদেরকে আদব শিক্ষা দেয়, বিবাহের ব্যবস্থা করে এবং তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ করে সে জান্নাতের অধিকারী হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৫১৪৭)
হাদিস
কোনো বান্দাহ ততোক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম হয়না , যতোক্ষণ তার মন ও যবান মুসলিম না হয়। [ তাগরীব ]
উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বর্ণনা করেছেনঃ
একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট
বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয় যার কাপড় ছিল
ধবধবে সাদা, চুল ছিল ভীষণ কালো; তার মাঝে ভ্রমণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত
হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারে নাই। সে নবী সাল্লাল্লাহু
'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গিয়ে বসে, নিজের হাঁটু তার হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে
নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেনঃ "হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে
বলুন"।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ "ইসলাম
হচ্ছে এই- তুমি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সালাত
প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত আদায় কর, রমাদানে সওম সাধনা কর এবং যদি সামর্থ থাকে
তবে (আল্লাহর) ঘরের হজ্জ কর।
তিনি (লোকটি) বললেনঃ "আপনি ঠিক বলেছেন"।
আমরা বিস্মিত হলাম, সে নিজে তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছে আবার নিজেই তার জবাবকে
ঠিক বলে ঘোষণা করছে। এরপর বললঃ "আচ্ছা, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন"।
তিনি (রাসূল) বললেনঃ "তা হচ্ছে এই- আল্লাহ্, তাঁর ফিরিশ্তাগণ, তাঁর
কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও আখেরাত বিশ্বাস করা এবং ভাগ্যের ভাল-মন্দকে
বিশ্বাস করা।
সে (আগুন্তুক) বললঃ "আপনি ঠিক বলেছেন"। তারপর বললঃ "আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন"।
তিনি বলেনঃ "তা হচ্ছে এই- তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত কর যেন তুমি
আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ, আর তুমি যদি তাঁকে দেখতে নাও পাও তবে তিনি তোমাকে
দেখছেন"।
সে বললঃ "আমাকে কেয়ামত সম্পর্কে বলুন"।
তিনি (রাসূল) বললেনঃ "যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সে জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশী কিছু জানে না"।
সে (আগন্তুক) বললঃ "আচ্ছা, তার লক্ষণ সম্পর্কে বলুন"। তিনি (রাসূল) বললেনঃ
"তা হচ্ছে এই- দাসী নিজের মালিককে জন্ম দেবে, সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ
উঁচু উঁচু প্রাসাদে দম্ভ করবে"।
তারপর ঐ ব্যক্তি চলে যায়, আর আমি আরো
কিছুক্ষণ বসে থাকি। তখন তিনি (রাসূল) আমাকে বললেনঃ "হে উমার, প্রশ্নকারী কে
ছিলেন, তুমি কি জান? আমি বললামঃ "আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন"।
তিনি বললেনঃ "তিনি হলেন জিবরীল। তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে
তোমাদের কাছে এসেছিলেন।" [সহীহ্ মুসলিমঃ ৮]
''যে
ব্যক্তি নিজের মাল রক্ষা করতে গিয়ে মারা যায় সে শহীদ,যে নিজের পরিবার
রক্ষা করতে গিয়ে মারা যায় সে শহীদ, যে নিজের দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে মারা
যায় সে শহীদ এবং যে নিজের প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে মারা যায় সেও শহীদ।''
[আবু দাঊদ, নাসাঈ, তিরমিযী]
আবূ
মাসউদ উকবাহ্ ইবন আমর আল-আনসারী আল-বদরী রাদিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত হয়েছে-
তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"অতীতের নবীগণের কাছ থেকে মানুষ একথা জানতে পেরেছে- যদি তোমার লজ্জা না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই কর।"
[বুখারী: ৩৪৮৩]
~~~প্রত্যেককেই নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে~~~
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
“আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষণাবেক্ষণকারী(বা দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের
প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুরুষ তার পরিবার ও সংসারের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও
দায়িত্বপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা
হবে। স্ত্রীলোক তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিনী এবং তাকে সে সম্পর্কে
জবাবদিহি করতে হবে। খাদেম তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তাকে
তার সে দায়িত্বপালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই
দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে
হবে।” [বুখারী: ৭/৪১(৫২০০) ও মুসলিম: ৬/৭(১৮২৯)]
রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্নেহাস্পদ দৌহিত্র আবু মুহাম্মাদ
হাসান ইবন আলী ইবন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি
বলেছেন: “আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে
এ কথা শুনে স্মরণ রেখেছি: সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জন করে সন্দেহমুক্ত বিষয়
গ্রহণ কর।”
[তিরমিযী: ২৫২০, নাসায়ী: ৫৭১১, আর ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
আল্লাহ্ তা‘আলা পাক-পবিত্র, তাই তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই কবূল করে থাকেন।
আল্লাহ্ তা‘আলা মুমিনদের ঐ কাজই করার হুকুম দিয়েছেন যা করার হুকুম তিনি
রাসূলদেরকে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন: ((হে রাসূলগণ! পবিত্র বস্তু
আহার করুন এবং নেক আমল করুন।)) আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেছেন: ((হে মুমিনগণ! আমরা তোমাদের যে পবিত্র জীবিকা দান করেছি তা থেকে আহার কর।))
তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ্) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে ব্যক্তি
দীর্ঘ সফরে বের হয় এবং তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে ও কাপড় ধুলোবালিতে ময়লা
হয়ে আছে। অতঃপর সে নিজের দুই হাত আকাশের দিকে তুলে ধরে ও বলে: হে রব! হে
রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোষাক হারাম, সে হারামভাবে
লালিত-পালিত হয়েছে; এ অবস্থায় কেমন করে তার দো‘আ কবূল হতে পারে।
[মুসলিম: ১০১৫]
Subscribe to:
Posts (Atom)