Sunday, May 20, 2012

মেয়েদের চুল ছোট করে কাটা যাবে কি ?

আমাদের এক বোন প্রশ্ন করেছেন, মেয়েদের চুল ছোট করে কাটা যাবে কি ?

[যদিও এই ব্যাপারে আমাদের সরাসরি কোন হাদিস জানা নাই তবে একটি ইংরেজী ওয়েব সাইট থেকে অনুবাদ করে জবাব দেয়ার চেষ্টা করছি। ভুল ত্রুটি আমাদের। আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ।]

উত্তরঃ আলেমগণ মেয়েদের চুল ছোট করে কাটা নিষিদ্ধ করেছেন ২ টি হাদিসের বক্তব্যকে সামনে রেখে-

১) অমুসলিম দের অনুসরণ করা
২) ছেলেদের সাদৃশ্য ধারণ করা

১ম হাদিসঃ
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুসরণ করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
[আবূ দাউদ, ৪০৩১]

অমুসলিম নারীরা চুল ছোট রাখে। তাই তাদের অনুসরণ করা নিষিদ্ধ।

২য় হাদিসঃ
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওইসব নারীদের লা'নত করেন যারা পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহন করে এবং ওইসব পুরুষদের লা'নত করেন যারা নারীদের সাদৃশ্য গ্রহন করে।
[বুখারী, ৭/২০৫]

চুল ছোট রাখা মেয়েদের পুরুষের সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়। তাই এটাও ইসলাম সমর্থন করে না।

তবে উপরের কারণ দুটি ছাড়া মেয়েরা তাদের চুলের বিভিন্ন রোগের কারণে চুল কিছুটা ছোট করতে পারে। তাছাড়া বিবাহিত মেয়েরা তাদের স্বামী'র অনুমতি নিয়ে চুল কিছুটা ছোট করতে পারে। তবে তা যেন পুরুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়। এক্ষেত্রে স্বামীর কোন আদেশ আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল (সা) এর আইনের উপর প্রধান্য দেয়া যাবে না।

সর্বশেষ, মেয়েদের চুল ছোট করা ইসলাম সমর্থন করে না, শুধুমাত্র কিছু রোগের কারণ ছাড়া। আল্লাহ্‌ সবচেয়ে ভালো জানেন।

অসুস্থতা'র মধ্যে আমাদের জন্য কোন সুসংবাদ আছে কি ?

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন তখন তিনি তার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করতেন এবং তাকে সুসংবাদ দিতেন।

যেমন একজন মহিলা সাহাবী (রা) বলছেন, একদা আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সেবা শুশ্রূষা করতে এসে বলেন, হে উম্মু আলা, তুমি সুসংবাদ গ্রহন করো। কেননা, মুসলমানদের অসুখের কারণে আল্লাহ্‌ তাআলা তাদের গুনাহ্‌ সমূহ এমন ভাবে দূর করে দেন যেমন ভাবে আগুন সোনা-রূপার মধ্যেকার ভেজাল দূর করে দেয়।

[আবূ দাউদ, ৩০৭৯]

বিদআত

রাসুলুল্লাহ (স:) এর হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি,

“নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহ্‌র কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হল ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৩৫ ও সুনান আন-নাসায়ী, হাদীস নং ১৫৬০, হাদীসের শব্দ চয়ন নাসায়ী থেকে।]

ক্রোধ বা রাগান্বিত হওয়া

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, প্রকৃত বীর পুরুষ সে নয় যে কুস্তিতে কাউকে হারিয়ে দেয়। বরং প্রকৃত বীর পুরুষ সে যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। [বুখারী, ৬১১৪]

এক সাহাবী রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা), আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, ক্রোধান্বিত হয়ো না। লোকটি বারবার তার অনুরোধের পুনরাবৃত্তি করলে নবী (সা) প্রতিবারেই তাকে বলতে থাকলেন, ক্রোধান্বিত হয়ো না। [বুখারী, ৬১১৬]

২ ওয়াক্তের নামায বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ

একদিন পূর্ণিমার চাঁদের প্রতি দৃষ্টি করে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপস্থিত সাহাবাগণকে বললেন, তোমরা আল্লাহ্‌ তাআলা কে এইরূপ স্পষ্ট রূপে দেখতে পাবে যেমন এই পূর্ণিমার চাঁদ কে দেখছ। কোনরূপ ভীড় বা কোলাহল ব্যতীতই দেখতে পাবে। কিন্তু এই নেয়ামত হাসিলের জন্য সূর্য উদয় এবং অস্তের পূর্ববর্তী (ফজর ও আছর) নামাযদ্বয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে (অর্থাৎ এই ২ ওয়াক্তের নামাযে কখনও গাফিলতি করা যাবে না)।

[বুখারী, ৫৫৪]

সিজদা'তে বেশী বেশী দোয়া করা

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, বান্দা যখন সিজদায় থাকে তখন সে তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। তাই সিজদায় গিয়ে খুব বেশী বেশী দোয়া করতে থাকো।  [মুসলিম, রিয়াদুস স্বালিহিন ১৪৯৮]

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু ও সিজদাতে এই দোয়া পড়তেন-
"সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলি"
অর্থ- ইয়া আল্লাহ্‌ ! আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি, ইয়া আল্লাহ্‌ ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। [বুখারী, ৭৯৪]

হাদিস

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যার আল্লাহ্‌ এবং পরকালের উপর বিশ্বাস আছে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। [বুখারী, ৬০১৮/মুসলিম, ৪৭]

আবু হুরায়রা [রা] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম) বলেছেনঃ [দুনিয়ার ব্যাপারে] তোমরা তোমাদের চেয়ে যে ব্যক্তি নিচের স্তরের তার দিকে তাকাবে। তোমাদের চেয়ে যে ব্যক্তি উপরের স্তরের তার দিকে তাকাবে না। এতে তোমাদের উপর আল্লাহর যে নেয়ামতসমূহ আছে তা তুচ্ছ মনে হবে না। [তিরমিযী-২৫১৫] 

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
যে শরীর হারাম (উপার্জন ভোগ) দ্বারা লালিত ও বিকশিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবেনা।
[বায়হাকি, মিশকাত ২৬৬৭]

তিনি আরোও বলেন,
আল্লাহ উত্তম-পবিত্র। তিনি উত্তম এবং পবিত্র (পন্থা ও বস্তু) ছাড়া গ্রহণ করেন না। তিনি মুমিনদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন, যে নির্দেশ দিয়েছেন রসূলগণকে। তিনি তাদের বলেছেন : ‘হে রসূলরা! তোমরা উত্তম ও পবিত্র জীবিকা আহার করো, ভোগ করো এবং আমলে সালেহ করো।’ তিনি আরো বলেছেন : ‘হে মুমিনরা! আমার প্রদত্ত উত্তম ও পবিত্র জীবিকা ভোগ-আহার করো।’ অতপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : দেখো, এক ব্যক্তি দূর দুরান্ত সফর করে আসে। তার চুল এলোমেলো, দেহ ধূলোমলিন। সে হাত উঠিয়ে প্রার্থনা করে : ‘হে প্রভু, হে প্রভু!’ অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম (অর্থাৎ হারাম উপার্জনের), হারাম উপার্জনই সে ভোগ করে। কী করে কবুল হবে তার দোয়া?
[সহীহ মুসলিম, মিশকাত ২৬৪০]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আক্ষেপ করে বলেন, যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম ! যদি তাদের কেউ জানে যে মসজিদে এসে নামাযে শরীক হলে সে একটি মাংসল হাড় বা ছাগলের ২টি ভালো খুর পাবে তাহলে অবশ্যই সে নামাযের জামায়াতে হাজির হবে।  [বুখারী, ৬৪৪] 

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তির কিছু উপকার বা ভালো করা হয় এবং এর জবাবে সে যদি উপকারকারীকে 'জাযাকাল্লাহু খাইরান' (আল্লাহ্‌ তোমাকে ভালো প্রতিদান দিন) বলে তবে সে পুরোপুরি ঐ ব্যক্তির প্রশংসা ও প্রতিবদল দান করল। [তিরমিযী, রিয়াদুস স্বালিহিন ১৪৯৬]