Wednesday, December 7, 2011

হাদিস

দুটি ক্ষুধার্ত বাঘকে ছাগলের পালের মধ্যে ছেড়ে দিলে ততটুকু ক্ষতিসাধন করতে পারে না,যতটুকু মানুষের মাল সম্পদ এবং সম্মান লাভের আকাঙ্খা করা তার দ্বীনের পক্ষে ক্ষতিকর।(তিরমিজি,দারেমি,আহমদ,মুসলিম,আবু দাউদ,মিশকাত)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতে আসমানের দিকে তাকাতে কঠোরভাবে নিষেদ করেন, এবং বলেন তারা যেন থেকে বিরত থাকে অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি কেঁড়ে নেয়া হবে
[
বূখারী, ৭১৪ ইঃফাঃ]

...
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্মন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটা এক ধরণের ছিনতাই যার দ্বারা শয়তান বান্দার সালাতের অংশবিশেষ কেঁড়ে নেয়।
[
বুখারী, ৭১৫ ইঃফাঃ]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমরা যখন সালাত আদায় করবে তখন এদিক ওদিক তাকাবে না কেননা বান্দা যতক্ষন এদিক ওদিক না তাকায় ততক্ষন পর্যন্ত আল্লাহ্তাঁর চেহারাকে বান্দার চেহারার প্রতি নিবন্ধ রাখেন।
[
তিরমিযী]

হযরত আবু উসামা [রাযি] থেকে বর্ণিত, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, দুটো ফোঁটা এবং দুটো চিহ্ন থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কিছু নেই
( ফোটা দুটো হল,) আল্লাহর ভয়ে রোদনের অশ্রুফোটা এবং আল্লাহর পথে প্রবাহিত রক্তের ফোটা।
আর দুটো চিহ্ন হল, আল্লাহর পথে (আঘাতের) চিহ্ন এবং আল্লাহর নির্দ্ধারিত কোন ফরজ ইবাদত আদায়ের চিহ্ন। {তিরমিযী-১৬৭৫}

 

Thursday, December 1, 2011

হাদিস শরীফ

যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত অঙ্গ (জিহ্বা) এবং দুই উরুর মধ্যস্থিত অঙ্গের (গোপনাঙ্গ) হেফাযত করবে, আল্লাহর রাসূল
তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।(বুখারী)
হযরত আনাস (রা) থেকে বর্নিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : তিনটি জিনিস মৃতের পেছনে পেছনে (কবর পর্যন্ত) যায় : তার আত্মীয় পরিজন, ধন সম্পদ ও তার আমল (নেক বা বদ্) অতঃপর দু'টি ফিরে আসে আর একটি (তার সাথে) থেকে যায় । তার আত্মীয় পরিজন ও সম্পদ ফিরে আসে এবং তার আমল তার সাথে থেকে যায়। (বুখারী ও মুসলিম)
“একজন মুমিনের উদাহরণ একটি শস্যের মত, থেকে থেকে বাতাস তাকে দোলায়। তদ্রুপ একের পর এক মুসিবত অবিরাম অস্থির করে রাখে মুমিনকে। পক্ষান্তরে একজন মুনাফিকের উদাহরণ একটি দেবদারু বৃক্ষের ন্যায়, দুলে না, কাত হয়েও পড়ে না, যতক্ষণ না শিকড় থেকে সমূলে উপড়ে ফেলা হয় তাকে।” [মুসলিম : ৫০২৪]
 
যে ব্যক্তি কোন লৌহ অস্ত্র দ্বারা আত্নহত্যা করবে, সেই লোহার অস্ত্রই তার হাতে দেয়া হবে, এর দ্বারা সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অনন্তকাল নিজের পেটকে নিজেই ফুঁড়তে থাকবে, আর সেই জাহান্নামই হবে তার চিরস্থায়ী বাসস্থান। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্নহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অনন্তকাল তাই চাটতে থাকবে। সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে চিরকাল এভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। আর সেখানেই সে চিরকাল অবস্থান করবে।
[সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২০৮]
মসজিদে গিয়ে নামজ আদায়ের ফজীলত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সকালে বা বিকালে যতবার মসজিদে যায় আল্লাহ্‌ তাআলা জান্নাতে তার জন্য ততবার মেহমানদারীর আয়োজন করেন। [বুখারী, ৬২৯]
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) ইরশাদ করেন_ রাসূল (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদে থাকে এবং প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি_ মানুষ যাকে নিজেদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে। _তিরমিজী। এ হাদিস দ্বারা বুঝা যায় ঈমানদার ব্যক্তি কারও ক্ষতি করতে পারে না। কারও অনিষ্ট সাধন করতে পারে না। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) নবী করিম (সা.)কে উত্তম ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে তোমার ভালোবাসা হবে, আল্লাহর জন্যই কারও সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবে। তুমি তোমার জিহ্বাকে আল্লাহর জিকিরে মশগুল রাখবে। হজরত মুয়াজ (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আর কি? উত্তরে রাসূল (সা.) বললেন, নিজের জন্য যা ভালোবাস অন্যের জন্যও তা ভালোবাসবে। আর নিজের জন্য যা অপছন্দ কর অন্যের জন্যও তা অপছন্দ করবে। _মুসনাদে আহমদ
রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, “আল্লাহ তাআলা আমার নিকট ওহী করেছেন যে, ‘তোমরা বিনয়ী হও যাতে একজন অপরজনের উপর অহংকার না করে। একজন অপর জনের উপর সীমালংঘন না করে।” -মুসলিম।
হে অন্তর সমূহের পরিবর্তনকারী! তোমার দ্বীনের উপর আমার অন্তরকে অবিচল রাখ। [তিরমিযি : ৩৪৪৪]

হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিপদের কষ্ট, নিয়তির অমঙ্গল, দুর্ভাগ্যের স্পর্শ ও বিপদে শক্রর উপহাস হতে। [বোখারি : ৫৮৭১]

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের আজাব হতে, কবরের আজাব হতে, মসিহ দজ্জালের ফিতনা হতে এবং জীবন মৃত্যুর ফেনা হতে। [মুসলিম : ৯৩০]

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সকল ঘৃণিত স্বভাব, অবাঞ্ছিত আচরণ, কুপ্রবৃত্তির তাড়না ও রোগ-ব্যাধি হতে দূরে রাখ। [তিরমিযি : ৩৫১৫]
 
 
 
 
 
 

Tuesday, November 22, 2011

শপথ ও আত্মহত্যাকারী প্রসঙ্গে



সাবেত বিন যাহ্হাক রাদিয়াল্লাহুআনহু নবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করল তাকে উক্ত ধর্মের লোক বলেই গণ্য করা হবে। আর যে ব্যক্তি কোন লোহার অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করল, তাকে সে অস্ত্র দিয়ে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে।” [বুখারী: ১৩৬৩]

হাদিস

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হিসন দারেমী আবু মাদীনার বর্ণনা অনুযায়ী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তি যখন পরস্পর মিলিত হতেন তখন তারা একজন অপরজনকে সূরা আসর না শুনানো পর্যন্ত পরস্পর থেকে বিদায় নিতেন না। ( তাবারানী )
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালবাসবে, তার আখেরাতের লোকসান হবে এবং যে আখেরাতকে ভালবাসবে তার দুনিয়ার কিছু ক্ষতি হবে। হে আমার উম্মত! তোমাদের মঙ্গলের জন্যই বলছি, তোমরা অস্থায়ী ও ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে ভালবেসে চিরস্থায়ী আখেরাতকে নষ্ট করে দিওনা। তোমরা সকলে চিরস্থায়ী পরকালকেই শক্তভাবে ধর এবং বেশি করে ভালবাস। (অর্থাৎ দুনিয়ার মহব্বত পরিত্যাগ করে আখেরাতের প্রস্তুতিতে আমলের প্রতি যথাযথ ধাবিত হও। (আহমাদ, বাইহাকী)
সাবেত বিন যাহ্হাক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করল তাকে উক্ত ধর্মের লোক বলেই গণ্য করা হবে। আর যে ব্যক্তি কোন লোহার অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করল, তাকে সে অস্ত্র দিয়ে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে।” [বুখারী: ১৩৬৩]
হুজায়ফা (রঃ) হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবেনা (বুখারী ও মুসলিম) । চোগলখোরি বলা হয় - একের কথা অপরকে বলে উভয়ের মাঝে মনমালিন্যের সৃষ্টি করে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেওয়া।
 
 
 
 
 
 

Wednesday, November 16, 2011

অহংকার




আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ () বলেন, “যার মনে একটি অণু পরিমাণ ওজনেরও অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।একজন উপস্থিত লোক জানতে চাইলো, “ইয়া রাসুলুল্লাহ , যদি কেউ তার নিজের পোষাক জুতাকে পছন্দ করে একারণে যে তাকে সুন্দর দেখায়রাসুলুল্লাহ() বলেন, “আল্লাহ তায়ালা নিজেই সুন্দরতম অস্তিত্ব এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার মানে হল, সত্যকে প্রত্যাখান করা মানুষকে ছোট করে দেখা ” [মুসলিম]


অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না, পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। যমীনে চলার সময় তুমি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং কন্ঠস্বর নিচু করো, নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর
[
লুকমান ৩১:১৮-১৯]


আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহুআনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “যখন তোমাদের কেউ দেখতে চায় যে, চেহারা সম্পদের দিক থেকে কে তার চেয়ে উত্তম, সে যেন তখন তার চেয়ে যে নিম্নমানের তার দিকে তাকায়।
[
বুখারী: ৬৪৯০]

হাদিস

হযরত সাওবান [রা] হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ
"কোন মুসলমান যখন তার কোন রোগী মুসলমান ভাইকে দেখতে যেতে থাকে, তখন সে বেহেশতের ফল আহরণ করতে থাকে (অথবা বেহেশতের পথে চলতে থাকে), যতক্ষণ না সে প্রত্যাবর্তন করে । {মুসলিম, মেশকাত-১৪৪১}

হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণীতঃ
"রাসূল (সা) বলেছেনঃ বৈষয়িক প্রাচুর্য ঐশ্বর্য নয়। বরং প্রকৃত ঐশ্বর্য হল মনের ঐশ্বর্য " ।

সহীহ বুখারী, ১০ম খন্ড, হাদীস ৬০০২
 
 

Tuesday, November 8, 2011

জান্নাত

হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেন, আল্লাহ বলেছেন, আমি আমার সৎকর্মশীল বান্দাহদের জন্য জান্নাতে এমন সব নিয়ামতসমূহ তৈরী করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্ত:করণও তা সম্পর্কে ধারণা রাখেনি।
(বুখারী, মুসলিম)